কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম বকুল।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ডুমরাকান্দা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৯ ও ১০ মে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “সাংবাদিককে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতার নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নাহিদুল হাসান রুকন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করেছেন। বকুলের দাবি, তাকে নিয়ে অবৈধ তেল ব্যবসা, বালু উত্তোলন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বকুল আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকাকে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” ঘোষণা করার পর স্থানীয়ভাবে নাহিদুল হাসান রুকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ শোনা যায়। প্রায় দুই মাস আগে তাকে ডেকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বকুল দাবি করেন, পরবর্তীতে স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সেখানে নাহিদুল হাসান রুকন নিজের ভুল স্বীকার করে ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ব্যবসায়ী মাসুম মিয়ার মাধ্যমে তার কাছে ক্ষমা চান।
এসময় তাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বকুল বলেন, “আমি বা আমার কোনো লোকজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করিনি।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাংবাদিক রুকনকে চড় মারার দৃশ্য দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডুমরাকান্দা বাজারের তাজা ফুড এন্ড এগ্রো কনজুমার প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী মজনু মিয়া বলেন, “আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওইদিন সালিশটি হয়েছিল। সালিশে বকুল কিংবা তার লোকজন রুকনকে মারধর করেনি। মীমাংসার স্বার্থে মাসুম মিয়া রুকনের পিঠে দুইটি থাপ্পড় দিয়ে বকুলের কাছে ক্ষমা চাওয়ান।”
২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মাসুম মিয়াও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, “সমাধানের স্বার্থে আমি তাকে নিয়ে যাই এবং বকুল ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলি।”
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্যও পাওয়া যায়। ডুমরাকান্দা বাজারের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, “বকুল ভাই আমার ব্যবসার কোনো অংশীদার নন এবং তিনি তেলের ব্যবসাও করেন না।”
ঠিকাদার রতন মিয়াও বলেন, “বকুলের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বা আর্থিক সম্পর্ক নেই। তিনি বালু বা মাটির ব্যবসাও করেন না।”
অন্যদিকে বাজারের মাতৃকা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী লিটন কর অভিযোগ করেন, “মিষ্টিতে মাছি পড়েছে এমন ভিডিও ধারণ করে মোবাইল কোর্ট ডাকার ভয় দেখিয়ে নাহিদুল হাসান রুকন আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে ২ হাজার টাকা নেয়।”
একই বাজারের ব্যবসায়ী আইনুল হক অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে রুকন তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাইরুল ইসলাম বকুল আরও দাবি করেন, নাহিদুল হাসান রুকনের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এসময় তিনি কয়েকটি ছবি উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, বিএনপি নেতাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রুকন আমার কাছ থেকেও ফুটবল খেলার কথা বলে ৩ হাজার টাকা নিয়েছিল, পরে তা খেলা কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে নিজেই রেখে দেয়। বকুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও সত্য নয়।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে খাইরুল ইসলাম বকুল তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সব সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনলাইন নিউজ পোর্টালের কুলিয়ারচর প্রতিনিধি নাহিদুল ইসলাম রুকন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা সবাই বকুলের লোক। এ বিষয়ে আমিও সংবাদ সম্মেলন করবো।”
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ফারুক মিয়া, ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.