মো. ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের টিন, দরজা, জানালা, কাঠসহ অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বিক্রি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নয়ন কাজের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নতুন ভবনের নিরাপত্তার জন্য গ্রিল নির্মাণসহ কিছু উন্নয়ন কাজে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় পুরোনো কয়েকটি কক্ষের সামগ্রী অপসারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সামগ্রী উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে এবং কিছু সামগ্রী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। তবে শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন ভবনের নিরাপত্তার জন্য গ্রিল তৈরি করা হয়েছে এবং সে কারণেই পরিত্যক্ত সামগ্রী বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তিনি জানান, ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত কমিটি বিষয়টি পরিচালনা করেছে।
ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সরাসরি মন্তব্য করেননি।
কমিটির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক জানান, পরিত্যক্ত টিন ও অন্যান্য সামগ্রী ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়েছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু সামগ্রী নিয়েছেন, কেউ টাকা পরিশোধ করেছেন, কেউ পরে পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।
তবে এ বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য গোলাপ রব্বানীসহ স্থানীয়রা। গোলাপ রব্বানী বলেন, শিক্ষকরা আগে থেকেই ভালো মানের টিন, দরজা বেছে নিয়েছেন। এরপর প্রায় ৪০০ কেজি ভাঙা টিন কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। বাজারমূল্যে বিক্রি করা গেলে বিদ্যালয়ের জন্য আরও বেশি অর্থ পাওয়া যেত। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম, লিখিত রেজুলেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। নিয়ম মেনে কাজ হলে এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হতো না।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মণ্ডল বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের সামগ্রী বিক্রি বা নিলাম বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.