মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় টানা ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সময়মতো পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও হঠাৎ টানা বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানিতে ভিজে ধানে চারা গজিয়ে গেছে, আবার শীষ ঝরে পড়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকট ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটা ও ঘরে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এক কাঠা জমির ধান কাটতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি সার, সেচ, কীটনাশক ও জমি প্রস্তুতসহ উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
তারা আরও জানান, বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। খোলা বাজারে প্রতি মণ ধান প্রায় এক হাজার টাকায় বিক্রি হলেও তা দিয়ে শ্রমিক খরচও মেটানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের দওকোনা গ্রামের কৃষক মুনতাজ গাজী বলেন, লাভের আশায় কয়েক বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বোরো চাষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন নেহালপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের কৃষক কাইছেদ মোল্লা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মনিরামপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হলেও টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে কিছু নিচু এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারলে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.