কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হওয়ায় কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়া খালটি পুনরায় খননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সহদেবপুর, নাংলা, দোজনা ও ফতেপুর এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার খালটি দীর্ঘদিন ধরে খড়কুটো, ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিত এবং কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যেত।
বর্তমানে কচুয়া উপজেলা এলজিইডি অফিস ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের আশা, খালটি সচল হলে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে এবং তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।
স্থানীয় কৃষক মোস্তফা বলেন, “পানির অভাবে আমরা অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। দূর থেকে সেচ পাম্পে পানি এনে এক ফসল ফলাতে অনেক খরচ হতো। এখন খাল খনন হওয়ায় পানি প্রবাহ বাড়বে। খালের পানি ব্যবহার করে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন রবি শস্যের চাষ করা যাবে। এতে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশা করছি।”
স্থানীয় কৃষক লোকমান হোসেন, আলাউদ্দিন ও মোহাম্মদ শিপনসহ আরও অনেকে জানান, একসময় এই এলাকার সাতটি গ্রামের মানুষ কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় খাল ভরাট হয়ে পড়ে। এতে গ্রীষ্মে পানির সংকট এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। এখন খাল খননের ফলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে।
তারা আরও বলেন, খাল খননের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কচুয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, “খাল খননের ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের আবাসস্থলও তৈরি হবে। এতে স্থানীয়ভাবে মাছের চাহিদা পূরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, “এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.