নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। শনিবার দুপুরে ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি প্রাথমিকভাবে ফোরকান মোল্লার বলে শনাক্ত করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইলিয়াস জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরে শনিবার দুপুরে পদ্মা নদী থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায় খবর পাঠানো হলে মামলার বাদী, নিহতদের স্বজন ও তদন্ত কর্মকর্তা মরদেহটি ফোরকান মোল্লার বলে ধারণা করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন বাজারের পাশে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌপুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, কাপাসিয়ার পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পলাতক আসামি ফোরকান মোল্লা আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তারই হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এক ট্রাকের হেলপার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে পড়ে থাকা মোবাইলটি কুড়িয়ে পান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।
পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ও ব্যাগ রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। পরে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি সেতুর রেলিং টপকে নদীতে ঝাঁপ দেন। যদিও ভিডিওতে দেখা ব্যক্তি ফোরকান কি না, তা তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- শারমিন খানম (৩৫), তার তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও দেড় বছরের ফারিয়া, এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২৩)। শারমিন ছিলেন ফোরকান মোল্লার স্ত্রী।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.