ফরিদপুর প্রতিনিধি
করোনা মহামারিতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তিন উদ্যোক্তা। তবে হতাশ না হয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে আসেন ফয়েজ মোল্লা, মোকাদ্দেস হোসেন মনির ও এম এ রাকিব মৃধা। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের মাঝিবড়ি এলাকায় গড়ে ওঠে ‘আর এ আর এগ্রো ফার্ম’। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে খামারটি এখন অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অর্গানিক পশু খামারে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ২০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই খামারে বর্তমানে রয়েছে শাহিওয়াল, ব্রাহমা ক্রস, মুন্ডি ও দেশি জাতের প্রায় ৫০টি গরু। পাশাপাশি হরিয়ানা, তোতাপুরী ও দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের প্রায় ১৫০টি ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে। উদ্যোক্তারা জানান, খামারটির ধারণক্ষমতা আরও অনেক বড়। এখানে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০টি গরু ও ২০০টির বেশি ছাগল পালন করা সম্ভব।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, খুব শিগগিরই কয়েকশ’ গরু ও হাজারের বেশি ছাগল যুক্ত করে খামারটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।
খামারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শতভাগ প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত খাবার ব্যবহার। পশুর খাদ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ উপাদান ব্যবহার করা হয় না। খামারের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত দেশীয় ঘাস ও পুষ্টিকর খাবারই পশুকে খাওয়ানো হয়।
খামার কর্তৃপক্ষ জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে পশু লালন-পালনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন করায় ইতোমধ্যে খামারটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিদিন ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে ব্যাপারী ও সাধারণ ক্রেতারা খামারটিতে ভিড় করছেন পছন্দের গরু ও ছাগল কিনতে।
স্থানীয়রা বলছেন, শূন্য থেকে শুরু করে ‘আর এ আর এগ্রো ফার্ম’-এর এই সাফল্য শুধু তিন উদ্যোক্তার ভাগ্য পরিবর্তন করেনি, বরং ফরিদপুর অঞ্চলের ডেইরি ও মিট শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.