যশোর প্রতিনিধি
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের আওতাধীন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা, মেধা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফলাফলের তালিকায় “মেধার ক্রমানুসারে নয়” উল্লেখ থাকায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৈতিকতা, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় সহজ কুরআন শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং বয়স্ক কুরআন শিক্ষা—এই তিনটি স্তরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সম্প্রতি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার আয়োজিত এই পরীক্ষায় যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন।
জেলার আওতাধীন যশোর সদরসহ আটটি উপজেলা—মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, শার্শা, কেশবপুর, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা থেকে প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় মোট ২২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কেশবপুর থেকে ৬ জন, মনিরামপুরে ১১ জন, বাঘারপাড়ায় ১৯ জন, অভয়নগরে ১৮ জন, শার্শায় ১৫ জন, যশোর সদরে ২৪ জন, ঝিকরগাছায় ২৭ জন এবং চৌগাছায় ২৫ জনকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।
তবে ফল প্রকাশের পরপরই পরীক্ষার্থীদের একাংশ ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ফলাফলে প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেনি এবং অনেক যোগ্য প্রার্থী অযৌক্তিকভাবে বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে ফলাফলের তালিকায় “মেধার ক্রমানুসারে নয়” উল্লেখ থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তারা ভালোভাবে পরীক্ষা দিলেও অকৃতকার্য হয়েছেন। এক পরীক্ষার্থী বলেন, “আমার লিখিত পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। আত্মবিশ্বাস ছিল উত্তীর্ণ হবো। কিন্তু ফলাফলে নিজের নাম না দেখে হতবাক হয়েছি। কী কারণে বাদ দেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমরা চাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হোক অথবা প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হোক।”
পরীক্ষার্থীদের কয়েকজনের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোনো কর্মকর্তা কিংবা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারদের পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এতে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে দাবি তাদের। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ আরও বেড়েছে।
এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের মাস্টার ট্রেইনার মো. আশরাফ আলীর যোগসাজশে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এমনকি মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, একটি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে যদি মেধা, সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাদের ভাষায়, “যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে যদি তদবির, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃত যোগ্যরা বঞ্চিত হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও মেধাতালিকা নির্ধারণের মানদণ্ড প্রকাশের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে যশোর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, “জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন থেকে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে তদারকি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যার পরীক্ষা কমিটির সভাপতি। আমরা এককভাবে কিছু করতে পারি না।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.