সুজন মজুমদার, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
উপকূলীয় অঞ্চল রামপাল। যার চারিদিকে নোনাজলে আবদ্ধ। বারো মাসের একমাত্র মিষ্টি জলের ভরসা বৃষ্টি মৌসুম। যুগযুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি সুপেয় জলের। তৃষ্ণা মেটাতে এই অঞ্চলের একমাত্র ঝলমলিয়া দিঘিই ভরসা।
তবে রামপালে বেশ কয়েকটি পুকুর রয়েছে তারমধ্য অন্যতম উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ঝলমলিয়া দিঘি। যার ইতিহাস ঐতিহ্য বেশ সনাতন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার ঐতিহ্যবাহী ঝলমলিয়া দিঘী’র কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জনগণ। মিষ্টিপানি নিরাপদসহ পরিষ্কার রাখতে হুড়কা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে শতাধিক মানুষ এই কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় সপ্তাহধরে বিশাল এই দিঘির কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নেতৃত্ব দেন, হুড়কা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন গোলদার, রামপাল উপজেলা যুব দলনেতা হাসান আলী বাবু, ইউনিয়ন বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদ শেখ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আরিফ বিল্লা প্রমূখ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চারিদিক নোনাজলে বেষ্টনী থাকলেও এই পুকুরের জল সারাবছরই থাকে মিষ্টি। দূর দূরান্ত থেকেও এই সুপেয় মিষ্টি জল নিতে ছুঁটে আসেন শত-শত মানুষ। আবার এই পুকুরের জল বহন করে তা বিক্রি করে জীবন বাঁচে অনেক পরিবারের। এক কথায় অপরিহার্য এই পুকুরের সুপেয় মিষ্টি জলের উপর নির্ভরশীল এখানকার হাজার হাজার পরিবার। পুকুরে স্নান ও হাত-মুখ ধোঁয়া, গবাদিপশু পুকুরে নেমে জল নষ্ট করা, ময়লা আবর্জনা ফেলা, পুকুরের মাছ নিধন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও সুপেয় জল নিরাপদ রাখতে তাই স্থানীয়দের সমন্বয়ে নেই কোন কার্পণ্যতা। হুড়কা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক জানান, ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও দেখভাল সর্বদাই করে থাকি। আমাদের নির্ভোরতার সুপেয় জলের একমাত্র এই ঝলমলিয়া দিঘীই ভরসা। তাই এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছরই পুকুরের শ্যাওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। যে কোন মূল্যে আমাদের এই পুকুরের জল নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা সবাই সচেতনতা অবলম্বন করি।
সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার রুহুল আমিন জানান, আমাদের সমন্বয়ের কোন অভাব নেই পুকুর পরিষ্কারে তা আবারও প্রমাণ হলো। আমরা একে অপরের পরিপূরক। একজন জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এই পুকুরের সুপেয় মিষ্টি জল নিরাপদ ও পরিষ্কার রাখতে তৎপর রয়েছি। যে কোন ভালো কাজে আমি তাদের সাথে থাকি এবং সবসময়ই পর্যবেক্ষণ থাকবো।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.