দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান ও হুকুমের ১ নম্বর আসামি জামায়াত নেতা মোহাম্মদ খাজা আহমেদসহ দু’জন আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। তাদের আগামী ৬সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জামিনপ্রাপ্তরা আসামিরা হলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহমেদ এবং দৌলতপুর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ। এরা পীর হত্যা মামলার ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামি। মামলাটি বর্তমানে কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জানাগেছে হাইকোর্টের ২০নম্বর আদালতের দৈনিক কার্যতালিকায় আগাম জামিনের আবেদনটি ১৮ নম্বর ক্রমিকে তালিকাভুক্ত ছিল। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তদের ৬ সপ্তাহের মধ্যে কুষ্টিয়া দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ হাইকোর্টের এ আদেশ মানতে বাধ্য থাকবেন। আদেশ অমান্য করলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।
পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়। হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১নম্বর প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অপর ৩জন আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)। এরমধ্যে কিলার রাজিব মিস্ত্রি র্যাবের অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হয়। মামলায় প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, উসকানি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি খাজা আহমেদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় পুলিশ এজাহার নামীয় ১জন আসামীসহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছে আলমগীর হোসেন (১৬), বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং রাজীব মিস্ত্রি (৩২)। গ্রেপ্তার এড়াতে মামলার প্রধান দুই আসামি খাজা আহমেদ ও আসাদুজ্জামান উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট তাদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে খাজা আহমেদের জামিনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইনসপেক্টর শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
এদিকে, পীর হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের জামিন ও এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দৌলতপুরসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.