মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মধ্যেও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীম পৌরসভাজুড়ে ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে মাদক ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যকে নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোহারা দিয়েই নির্বিঘ্নে চলছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার অন্তত ১০টিরও বেশি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিরা ডিবি পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশের কিছু সোর্সের মাধ্যমে সাপ্তাহিক এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। যারা এই টাকা দিতে ব্যর্থ হন, কেবল তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, চট্টগ্রাম থেকে বড় বড় মাদকের চালান এসে প্রথমে মিরকাদীমে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। টেঙ্গর প্রাইমারি স্কুল মোড় থেকে টেঙ্গর মন্দির পর্যন্ত এলাকা বর্তমানে মাদকের অন্যতম হটস্পট হিসেবে পরিচিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন কৌশলে মাদক কেনাবেচা চলে। এ ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
মাদক বিক্রির আরও কয়েকটি স্পট হিসেবে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন—মিরাপাড়া গোরস্থান, মিরাপাড়া বউবাজার, গোলাপবাগ, পালবাড়ি, টেঙ্গর গার্লস স্কুলের সামনে ও পেছন, গোপালনগর রাস্তার মোড়, চিমটির বাগ, নৈদিঘির পাথর মোড়, তিলার্দী চর, নগর কসবা, কমলাঘাট, পুরাতন কাঠপট্টি ও লঞ্চঘাট এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিমারা তদন্ত কেন্দ্র থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেকটাই নামেমাত্র। মাঝে মধ্যে টহলে এসে কিছু পুলিশ সদস্য মাদক কারবারিদের সঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঘুষের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ঘটনাস্থল থেকেই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক কারবারি দাবি করেন, হাতিমারা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রব প্রতি সপ্তাহে কারও কাছ থেকে এক হাজার, আবার কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। তার সোর্স ধলাগাঁওয়ের সোহেল ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন কারবারির কাছে সরবরাহ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেকজন মাদক কারবারি বলেন, “এলাকার সব মাদক ব্যবসায়ীই পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা করে। যার সঙ্গে সমঝোতা হয় না, তারাই ধরা পড়ে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিমারা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রব বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নই।”
মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের সদস্য হাসান বলেন, “আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে অফিসে জমা দেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মিরকাদীম পৌরসভা পুরোপুরি মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.