হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রথমে সাধু সেজে গরু বেপারীদের সাথে ভালভাবে লেনদেন করেন এক প্রতারক চক্র। কয়েক হাটে তাদের লেনদেন ভালো দেখে কিছু টাকা বাকিতে গরু দেন ব্যবপারীরা। পরে ধীরে ধীরে বাকীর মাত্রা বাড়িয়ে ফেলেন প্রতারক গোষ্ঠী।
পরিশেষ মোটা অংকের টাকা বাকিতে গরু নিয়ে তালবাহানা শুরু করেন চক্রটি। প্রতারণার খপ্পরে পড়েছেন নিশ্চিত হয়ে কৌশলে তাদেরকে এনে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেন ব্যাপারীরা। দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত টাকা না দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে চলে যেতে চাইলেন আটক সদস্যরা। উপায় না পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন চক্রের সদস্যরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার হাতিয়া থানায় আটক দু'জনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে মো. আবুল কালাম নামে এক গরু বেপারী। পুলিশ এই মামলায় তাদেরকে আটক দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেন।
আটক দুইজন হলেন- নোয়াখালী সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুখ হোসেনর ছেলে মো. বেলাল হোসেন। নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিপন।
থানায় করা মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে চক্রের মূলহোতা কামালসহ এই দুইজন হাতিয়া বাজার গরু কিনতে আসে। তারা ঢাকা সেনা নিবাসে গরুর মাংস সরবারহ করে বলে জানায়। প্রথমদিন তারা এক ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যায়। একই ভাবে তারা ১৬ মে হাতিয়া বাজার আসে তাতে দুই ট্রাক গরু কিনে নিয়ে যায়। বেপারীদের আস্তা অর্জনের জন্য তারা কিছু টাকা বাকিতে গরু নিয়ে একদিন পর তা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে। এর একদিন পর তারা ৭ জন বেপারী থেকে ৫২ লাখ টাকার গরু কিনে নিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করবে বলে চলে যায়। পরদিন সকালে তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তারা তালবাহানা করতে থাকে। বিষয়টি প্রতারণা বুঝতে পেরে কৌশল অবলাম্বন করে বেপারীরা। তারা আরো কিছ গরু বাকিতে দেওয়া হবে বলে তাদেরকে হাতিয়া বাজার এনে আটক করে ফেলে। মামলার বাদী গরু বেপারী আবুল কালাম জানান, পুরো বিষয়টি ছিল প্রতারণার অংশ। বাকীতে গরু নেওয়া আবার পরিশোধ করা সবই ছিল নাটক। সব শেষ মোটা অংকের টাকা মেরে দেওয়ার জন্য তারা এসব করেছে। তারা সেনা নিবাসে মাংস সরবারহ করে বলাতে একটু বিশ্বাস হয়েছিল।
কালাম আরো জানান, তিনিসহ আরো ৬ জন বেপারী এই চক্রের কাছে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পাবেন। সবাই একেবারে অসহায়। হাতিয়ার মূল ভূখন্ড থেকে গরু কিনে নিয়ে হরনী ইউনিয়নের হাতিয়া বাজার নিয়ে তারা বিক্রি করে। হাতিয়া বাজার হলো এই অঞ্চলের সব চেয়ে বড় গরু বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে এই বাজার থেকে গাড়ী ভর্তি গরু কিনে নিয়ে যায়। প্রতরণার শিকার বেপারীদের বাড়ী হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে বলে জানান কালাম।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য আটক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। এদের মূল হোতা কামাল হোসেনকে এখনো আটক করা যায়নি। তবে তার বাড়ী সোনাইমুড়ি থানায়। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে তিনি একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলাও রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.