মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের দেবীপুর গ্রামের এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিলেন কাওছার আলম (৪৪)। দীর্ঘ ১৭ বছর আগে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া সেই যুবক অবশেষে ফিরবেন, তবে জীবিত নয়—নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে লাশ হয়ে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, বিস্ময় ও নানা প্রশ্ন।
জানা যায়, কাওছার আলম বিরামপুর পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের গিরিঙ্গি বাজার এলাকার মৃত জামেদ আলীর ছোট ছেলে। প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিক কলহে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। তখন তার স্ত্রী ও ছেলেকে রেখে অভিমান করেই চলে যান কাওছার।পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে প্রায় সাত বছর পর একবার বড় বোন মোছাঃ নিলুফার ইয়াসমিনকে ফোন করে তিনি জীবিত থাকার খবর দেন।এরপর আবারও তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সম্প্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচারবাড়িয়া গ্রামের শাহ ভিটা এলাকায় গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি কাওছার আলমের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক কিশোর গাছের সঙ্গে বাঁধা মরদেহটি দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের দুই হাত দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল, শরীরজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন এবং দেহ থেকে মাথা ছিল বিচ্ছিন্নভাবে পাশে পড়ে ।
বিভৎস এ হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহতের ভাগ্নি নিশাত ইয়াসমিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জন্মের পর থেকে ছোট মামাকে কখনো দেখিনি। আজ দেখবো, কিন্তু তিনি লাশ হয়ে ফিরলেন।” বড় বোন নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ১৭ বছর আগে অভিমান করে চলে গিয়েছিল। অনেক বছর পর একবার ফোন করেছিল। তারপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। আজ সকালে পুলিশ এসে জানালো আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের দুলাভাই মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, সে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এত বছর পর যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটা আমাদের খুব ব্যথিত করেছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কাওছার আলমের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, ২০১৫ সালে নাটোরের নলডাঙ্গা থানায় তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা ছিল। এছাড়াও বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় ফেন্সিডিল ও মারামারির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সব মিলিয়ে ৩টি মামলায় তার বিরুদ্ধে ৬টি পরোয়ানা ছিল বলে জানা গেছে। এসব মামলার সূত্র ধরে প্রায়ই বিরামপুর থানা পুলিশ দেবীপুর গ্রামের বাড়িতে তার খোঁজে আসত।
তিনি আরও জানান, এখনো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। মরদেহ শনাক্ত ও দেখার জন্য বিরামপুর থেকে পরিবারের পক্ষের লোকজন ময়মনসিংহে যাবেন। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর কাওছার আলমের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এখন বিরামপুরবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—কারা এবং কেন এত নির্মমভাবে হত্যা করল তাকে?
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.