রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনার তেরখাদায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বাজার। উপজেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রামীণ পরিবারের গোয়ালঘরে এখন গরু, ছাগল ও ভেড়ার সরব উপস্থিতি। স্থানীয় খামারিদের দাবি, এ বছর চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় কোরবানির বাজারে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। বরং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর তেরখাদায় কোরবানির জন্য মোট ১২ হাজার ৫৮৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৮৭৯টি গরু, ৭ হাজার ৪২৬টি ছাগল এবং ২৮০টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু। অন্যদিকে উপজেলায় সম্ভাব্য কোরবানির চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ১৫৭টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইখড়ি গরু-ছাগলের হাট। প্রতি শুক্রবার বসা এই হাট এখন সকাল থেকেই মুখর হয়ে উঠছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে। তেরখাদাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও নসিমনে করে পশু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। স্থানীয়দের মতে, খুলনা অঞ্চলের অন্যতম বড় ও পরিচিত পশুর হাট ইখড়ি, যেখানে প্রতি সপ্তাহেই বিপুল পরিমাণ গবাদিপশুর বেচাকেনা হয়।
ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটের ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিল্টন হোসেন মুন্সী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইখড়ি হাট এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে পরিচিত। ঈদ উপলক্ষে হাটে বাড়তি নিরাপত্তা, পশুর জন্য আলাদা অবস্থান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে নিয়মিত শুক্রবারের পাশাপাশি আগামী সোমবারও বিশেষ পশুর হাট বসবে।”
উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের খামারি রসূল মোল্লা জানান, সারা বছর যত্ন করে লালন-পালন করা একটি গরু সম্প্রতি তিনি এক লাখ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। দেশি গরুর চাহিদা ভালো থাকায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের আগের শেষ কয়েকটি হাটে আরও ভালো বেচাকেনার আশা করছি।”
পশু ব্যবসায়ী শাহিদুল তরফদার বলেন, “কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে পশুর হাটে বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে পশু সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করি। তবে এ অঞ্চলের মধ্যে ইখড়ি হাটেই সবচেয়ে বেশি গরু কেনাবেচা হয়। দেশি পশুর চাহিদাও অনেক বেশি।”
ক্রেতা খান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি হাট ঘুরে শেষ পর্যন্ত পছন্দের একটি দেশি গরু কিনেছি। এবার বাজারে ভালো মানের পশুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।”
তেরখাদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুপি রানী সরকার বলেন, “কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও পরিচর্যায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহ্মিনা সুলতানা নীলা বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”