নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা মান গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কমর্চারীসহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। সেই সাথে চুরি হওয়া নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩মে) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার ওই নথিগুলো হারিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার দিনব্যাপী রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে এস এম আকাশ (২৬), খয়রাবাদ গ্রামের করিম সরদারের ছেলে পলাশ। তিনি যুগ্ন জেলা ও দায়রা আদালতে-২ এর পিয়ন ও পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং শহরের বকুল তলা এলাকার আমজাদের ছেলে সবুজ (৪০)। তিনি কোর্টের মুহরী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ডিবির অফিসার ইনচার্জ হাসিবুল্লাহ হাবিবের নেতৃত্বে একটি চৌকষ দল দিনব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর ৯০৪/২০২২ নং মামলাটির রায় ঘোষণা হবার কথা ছিল । কিন্তু তার আগেই ওই মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে। সেই সাথে চুরি হওয়া নথিটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে আদালতের এক কর্মচারীর নিকট ফোন করে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ মহোদয় আমাকে অবগত করে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২ নওগাঁ হতে রায়ের জন্য অপেক্ষা মান একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরি হয়ে গেছে বলে জানান।
বিষয়টি জানার পর ডিবি পুলিশকে দ্রুত চোর সনাক্তসহ মামলার নথি উদ্ধারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর চুল চেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল চোরকে সনাক্ত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আকাশ তার বাড়ির আঙিনায় একটি খড়ের পালা থেকে নথিটা বের করে দেয়।
পুলিশ সুপার বলেন, পরবর্তীতে আকাশের দেওয়া তথ্যমতে নওগাঁ সদর ও বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে যুগ্ন জেলা ও দায়রা আদালতে-২ এর পিয়ন পলাশকে ও পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং সর্বশেষ কোর্টের মুহুরী সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি এস এম আকাশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিন জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকা আসামির কথা উল্লেখ করেন। আর এর পিছনে কি উদ্দেশ্যে আছে তা উদঘাটন করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.