আবিদ হাসান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ ২ আসনের হরিরামপুর উপজেলার বেশিরভাগ খেটেখাওয়া দিনমজুরেরা জানেই না গণভোট কি? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের কথা বললেও গণভোট নিয়ে প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে। গণভোট প্রচারে সরকারের নানামুখী প্রচারের উদ্যোগ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তেমন প্রভাব পরেনি, ফলে সাধারণ মানুষ ধোয়াশার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে শুধু হরিরামপরই নয় পুরো মানিকগঞ্জেই একই অবস্থা। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা আর সাধারণ মানুষের খুব কাছ থেকে এসব তথ্য উঠে আসে।
হরিরামপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার,চা এর দোকান, পাড়া-প্রতিবেশিসহ প্রায় শতাধিকের বেশি সাধারণ মানুষের তথ্যমতে গণভোট কি, এখনো অজানা রয়েছে সাধারণ মানুষের। আর বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের বক্তব্য, না বুঝেই তারা না ভোট দেবেন বলেও মন্তব্য করেছে অনেকেই।
গণভোটের প্রচারে উপজেলায় তেমনটা প্রচার প্রচারণা নেই বলে এখনো অবগত নয় বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ। সরকারিভাবে উপজেলা রির্টার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া থাকলেও হাতেগোনা কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্যরাও ভালভাবে বোঝেও না বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
একই দিনে দুইভোট, এটা অনেকে জানেন, কিন্ত জাতীয় নির্বাচনের ভোট প্রতিক দেখে দেবে, এটা জানা থাকলেও গণভোটে হ্যা-না ভোট কিসের জন্য, সেটা না জেনেই কি সিদ্ধান্ত নেবেন সাধারণ মানুষ, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উপজেলার দিয়াপাড় গ্রামের দিনমজুর সাগর আহমেদ জানান, আমরা প্রতিক দেখে ভোট দেবো। আরেকটা ভোট কিসে দেবো, সেটা জানিনা। হ না সিস্টেমটা আবার কি.?
দড়িকান্দি গ্রামের মহিদুর রহমান বলেন, হ না ভোট কিসের, সেটাই তো জানিনা। এক জায়গায় দিমু, সেটা যেনেই যাক, যাক গা।
ভাওয়ারডাঙ্গি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিনমজুর একজন জানান, না ভোট দিমু। কি কারণে কেন না ভোট দেবেন মর্মে জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্বাচন পছন্দ হয়নি, তাই না ভোট দিমু। এর আগেও একবার হ না ভোট দিছিলাম। ওইডাই এইডার মত ওইবো।
উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা চিঠি পেয়েছি, ব্যস্ততার কারণে দেখতে পারিনি। গণভোট সম্বন্ধে ধারণা নেই আমার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে ফোন দিলে বরাবরের মতই সাংবাদিকের নাম্বার দেখে ফোন রিসিভ করেননি, এমনকি পরবর্তীতে ফোন ব্যাক করেননি।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানান, আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, আশাকরি ১২ তারিখের যে ভোটের দিন, তার আগেই আমরা পৌছে যেতে পারবো। বিষয়টি একেবারেই নতুন, এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশাকরি পৌছে যাবো, আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রচার চালালে আমরা সবার কাছে পৌছাতে পারবো।

