ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ও রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৃথক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন আলা উদ্দিন, শেখ ফরিদ, রাহাতুল ইসলাম বিজয়, সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুস শুক্কুর, সৈকত, করিম ও সৌরভ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সোনাপুর হাজী শামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জাফর ও সুমনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বিকাল ৩টার দিকে হাজী রহিম উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জাফরের স্বজনরা রিকশাচালক ও যুবদলকর্মী আলা উদ্দিনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে, এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। পরে আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদেরও হামলার শিকার হতে হয়।
এর প্রতিশোধ নিতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় যুবদল নেতা এনামুল হক শাহীনের অনুসারীরা সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহাগ নূরের অনুসারী রাহাতুল ইসলাম বিজয়কে কুপিয়ে আহত করে। তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে সন্ধ্যায় হাসপাতাল এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সোহাগ নূরের অনুসারী যুবদল কর্মী শেখ ফরিদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
রাত ৯টার দিকে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হলে আবারও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে আলা উদ্দিনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান নেতা সোহাগ নূর বলেন, “দুই শিক্ষার্থীর ঘটনায় শুরু হলেও পরে কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ে রূপ নেয়। জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা এনামুল হক শাহীন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনায় নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে। জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।”
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

