শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিয়ার ব্যবসার কথা স্বীকার করে ভাইরাল হওয়া শ্রমিকদল নেতা সুমন মোল্লাকে দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সুমন মোল্লার স্বীকারোক্তির বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় সাধারণ জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের সম্মানহানির অভিযোগে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতির পদসহ সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, মঙ্গলবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে শ্রমিক দলের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সুমন মোল্লাকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, মো. মকিম মন্ডল নামে এক আইনজীবীর সঙ্গে সুমন মোল্লার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ২৬ এপ্রিল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই কথোপকথনে সুমন মোল্লা দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, তার সঙ্গে আরও তিনজন সহযোগী রয়েছে, তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি চক্র প্রশাসনকে প্রভাবিত করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। সুমন মোল্লাও ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যৌনপল্লীতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা বিচার-সালিশের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে থাকে। এতে সাধারণ যৌনকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সুমন মোল্লার স্থায়ী বহিষ্কার এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

