আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলীতে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজন মৃধার বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ তানজিলা আক্তার অ্যানি (২৫)। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে আমতলী পৌর শহরের আব্দুল্লাহ সুপার মার্কেটের পেছনে হানিফ কটেজের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের মা আফরোজা বেগম রিনা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে সাজানোর চেষ্টা করেন জামাতা সুজন মৃধা। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্বামী সুজন মৃধাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে আমতলী উপজেলার চিলা গ্রামের মৃত জলিল গাজীর মেয়ে তানজিলা আক্তার অ্যানির সঙ্গে একই উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামের সোবাহান মৃধার ছেলে সুজন মৃধার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছয় বছর ও দুই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের মা জানান, সুজন মৃধার সঙ্গে নীলগঞ্জ গ্রামের সাবিনা নামের এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে অ্যানি তার মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেই সুযোগে সুজন তার প্রেমিকাকে বাসায় নিয়ে আসে। রাতে অ্যানি বাসায় ফিরে দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় তার সন্দেহ হয়। ঘরে ঢুকে বিছানায় একটি চাদর দেখতে পায় এবং পরে বারান্দায় সাবিনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এ নিয়ে রাতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, রোববার দুপুরে সুজন অ্যানিকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এ বিষয়ে অ্যানি মুঠোফোনে তাকে সব জানায়। পরে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
নিহতের খালা ফরিদা বেগমও অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাগ্নিকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে সুজন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”
স্বামী সুজন মৃধা পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

