গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপির সঙ্গে কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরিফ সরদারের (২৭) অসদাচরণ ও হুমকি প্রদানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শরিফ সরদার উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বরাট গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য শাজাহান সরদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপি জানান, তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ৫ম শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়ার সময় অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম বিনা অনুমতিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন।
এ সময় তিনি এক নারীর মাতৃত্বকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। কিছু সময় চাইলেও অভিযুক্ত দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।
পরে ক্লাস শেষে বাইরে এসে দেখা যায়, কাগজটিতে অসংগতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নারী সাভারের ভোটার হওয়ায় বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য সময় চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবুও অভিযুক্ত যুবক প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত শরিফ সরদার বলেন, তিনি তার এক আত্মীয় শারমিন আক্তারের মাতৃত্বকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন। কাগজে ত্রুটি আছে বলে প্রধান শিক্ষিকা তা তার মুখের ওপর ছুড়ে মারেন, এতে তিনি রাগান্বিত হন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ঘটনা জানার পরই পুলিশ পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শরিফ সরদার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের কয়েক মাস পর নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয় এবং অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা সজীব শাহরিয়ার জানান, শরিফ সরদারকে এ ধরনের কোনো আন্দোলনে আগে দেখা যায়নি। হঠাৎ করে নিজেকে নেতা পরিচয় দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে তার অসদাচরণের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

