মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীম পৌরসভার তিলার্ধচর মুসলিম নগর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ‘স্বপ্নজয়ী পাঠশালা’। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
স্বপ্নজয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর থেকে পাঠশালাটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার স্বেচ্ছাশ্রমে ৪৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠ গ্রহণ করছে। তবে স্থান সংকুলানের কারণে অনেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও ভর্তি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে পাঠদান কার্যক্রম। এখানে শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দারিদ্র্য ও পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে অনেক শিশুই বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাদের জন্য ‘স্বপ্নজয়ী পাঠশালা’ একটি আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট্ট এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, সমাজের প্রতিটি এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ গড়ে উঠলে শিশুশিক্ষার হার বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও আলোকিত হবে।
শিক্ষিকা সাদিয়া আক্তার প্রজ্ঞা জানান, একটি মাত্র কক্ষে প্রায় দুই বছর ধরে পাঠদান চলছে। জায়গা ও ক্লাসরুমের অভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া যাচ্ছে না। সরকারি সহায়তা পেলে এই প্রতিষ্ঠান আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
পরিচালক শাহ মোস্তফা কামাল বলেন, “কোনো শিশুই যেন শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সহযোগিতা পেলে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে স্কুলটির নিজস্ব জমি ও ভবন গড়ে উঠবে। এতে মিরকাদীমের আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে।

