নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামে একটি মৎস্য খামারে রাতের আঁধারে বিষ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারটির মালিক ও কৃষি উদ্যোক্তা নয়ন সরকার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ‘রবিন মৎস্য খামার’-এ দীর্ঘদিন ধরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুঁটি, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন নয়ন সরকার। খামারটি ছিল তাঁর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
নয়ন সরকার জানান, গত বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো মাছকে খাবার দিতে গিয়ে তিনি কয়েকটি মাছ মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও পরদিন বৃহস্পতিবার খামারে গিয়ে তিনি দেখেন পুকুরজুড়ে অসংখ্য মাছ মরে ভাসছে। পানির রং অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ধারণা, শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে কেউ পুকুরে বিষ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করেছে।
নয়ন সরকার বলেন, “আমার লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা গেছে। বহু বছরের পরিশ্রম এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। এখনও প্রায় তিন হাজার মাছ পুকুরে রয়েছে। সেগুলো বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছি। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।”
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয়দের অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে নতুন পানি দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে অবশিষ্ট মাছ রক্ষার চেষ্টা চলছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়ন সরকার একজন পরিচিত কৃষি উদ্যোক্তা। তাঁর খামারে এ ধরনের নাশকতার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন।
এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

