রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
কৃষকদের সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা সহজে পৌঁছে দিতে ‘কৃষি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের কয়েকটি নির্বাচিত উপজেলার পাশাপাশি খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনের তিনটি উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগে এলাকার হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার বিভিন্ন ব্লকে পর্যায়ক্রমে প্রকৃত কৃষকদের তথ্য নিবন্ধনের কাজ চলছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু জানান, তিন উপজেলার কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে রূপসা উপজেলার ৬৭৫ জন কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে দিঘলিয়া উপজেলার ৫০০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ও ১০ কেজি করে ডিএপি এবং এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেরখাদা উপজেলার প্রায় ৭০০ জন কৃষকের মধ্যেও একই ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ, উন্নত প্রযুক্তি ও অন্যান্য কৃষিসেবা আরও স্বচ্ছ ও সহজ উপায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, “কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা সহজেই সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ ও প্রণোদনা পাবেন। রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার কৃষকদের এ সুবিধার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ জনকল্যাণমূলক সব খাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কাজ করা হবে।
খুলনা জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ বলেন, কৃষি কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষকরা সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও সরকারি প্রণোদনা সহজে পাবেন, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান বলেন, কৃষকদের উন্নয়নে কৃষি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ প্রকল্পে তিনটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কৃষকরা আরও সহজে সরকারি সহায়তা পাবেন।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্যা খায়রুল ইসলাম বলেন, কৃষি কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কৃষি খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রূপসা উপজেলার কৃষক আবু সাঈদ বলেন, কৃষি কার্ড চালু হলে কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা সহজে পাওয়া যাবে। তেরখাদা উপজেলার কৃষক রনজিত বিশ্বাস বলেন, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষি কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

