শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছিল আবেগঘন এক বিকেল। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তিতে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী মোল্লাকে বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ে জড়ো হন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল প্রিয় শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে করে তাকে নিজ বাড়ি ছোট ভাকলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজারসংলগ্ন কদমতলী গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আব্বাস আলী মোল্লা ১৯৮৭ সালের ৫ জানুয়ারি চর পাঁচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর চর বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৩৯ বছর ৮ মাস ৬ দিন নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন তিনি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ছিল তার চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “আব্বাস আলী মোল্লা এই বিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষা অফিসার আঃ কাদের, নাসরিন নাহার, ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ বাবর আলীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিদায়ী বক্তব্যে শিক্ষক আব্বাস আলী মোল্লা বলেন, “জীবনের ৪০টি বছর আমি শিক্ষার্থীদের মাঝে কাটিয়েছি। আজ যে সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। তারা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। আমি তাদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি। একই সঙ্গে আমাকে বিদায়ী সম্মাননা জানানোয় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন শিক্ষক আব্বাস আলী মোল্লা।

