কালকিনি-ডাসার (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনিতে মো. এছাহাক সরদার (৭৫) হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে নিহতের বাড়ির সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে পূর্বশত্রুতা চলছিল। গত ২২ আগস্ট রাতে এছাহাক পাশের একটি দোকান থেকে একা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পথে ওত পেতে থাকা ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা, লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। পরে তাঁকে কুপিয়ে জখম এবং দুই পায়ের রগ কেটে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় এছাহাককে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি তুহিন মোল্লাকে রাজধানী ঢাকা থেকে পলাতক অবস্থায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আলাউদ্দিন সরদার, সাবেক কাউন্সিলর ইয়াসমিন খানম, ইসমাইল ও নিহতের মেয়ে মোছা. ফাহিমা বেগম।
বক্তারা বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি—ইসাহাক সরদার হত্যা মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ঝালু মোল্লার বক্তব্য জানতে এলাকায় ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, এছাহাক হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন মোল্লাকে পলাতক অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে।

