শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রধান শিক্ষক সংকট। উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৮টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারীতে মোট ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া এসব শিক্ষকের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হয়। ফলে তাদের ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মনিটরিং, শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে দ্বৈত চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষকবিহীন কয়েকটি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা জানান, দাপ্তরিক কাজ, সভা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনেক সময় চলে যায়। ফলে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “চিতলমারীতে ব্যাপকসংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এ সংকট নিরসন না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে পদোন্নতি ও নিয়োগের মাধ্যমে এ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”

