হুমায়ুন কবির মিরাজ, বেনাপোল
বেনাপোল স্থলবন্দরে নিয়োজিত ১২৯ জন নিরাপত্তাকর্মী অভিযোগ করেছেন, চাকরি টিকিয়ে রাখতে তাঁদের প্রত্যেকের কাছে ৩০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নতুন নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাত সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেড–এর অপারেশন ম্যানেজার মো. শামীম শিকদার।
সোমবার (১৪ জুলাই) বন্দরের পরিচালক বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রে এসব কর্মীরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। এখন নতুন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার আগে অপারেশন ম্যানেজার শামীম শিকদার চাকরি রাখতে ৩০ হাজার এবং নতুন নিয়োগপ্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছেন।”
অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে তাঁদের চাকরি থাকবে না বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা আরও জানান, এই স্বল্পবেতনের চাকরিতে এত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয় এবং নিয়োগচুক্তিতে কোনো আর্থিক লেনদেনের ধারা নেই।
সাবেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পিমা’-এর সিএসও আল-আমিন হোসেন বলেন, “কর্মীদের এই অভিযোগ আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কর্মীদের চাকরি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম শিকদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শ্রম বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি বন্দর এলাকায় এ ধরনের ঘুষ দাবি সরকারি চাকরি বিধিমালা ও দুর্নীতি দমন আইনের লঙ্ঘন। প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
এদিকে শ্রমিক নেতারা সতর্ক করেছেন, “এই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হলে শুধু কর্মীদের জীবন-জীবিকাই নয়, বরং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের নিরাপত্তা ও আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়বে।”

