ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
অর্ধশতাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন এবং ইসলাম ধর্ম, রাসুলুল্লাহ (সা.), ও হযরত আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্ত্তিক গোপাল বিশ্বাস এখনো সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে কার্ত্তিক গোপাল ভারতে পালিয়ে যান। পরে ৫ সেপ্টেম্বর নাইমুল হাসান মারুফ নামে এক শিক্ষার্থী তাকে একমাত্র আসামি করে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ঝিসিআর-৮০৯/২৪)। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত ঝিনাইদহ ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি ৩ সেপ্টেম্বর একটি পাঁচ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যাতে যৌন নির্যাতন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইএইচটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. রেজিনা আহমেদ।
২০২৫ সালের ১৪ মে আদালত কার্ত্তিক গোপালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। মামলার বাদী ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পুলিশও গ্রেফতার কার্যকর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, কার্ত্তিক গোপাল ছাত্রীদের শহরের ব্যাপারীপাড়ার তার চেম্বারে ডেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের নামে যৌন হয়রানি করতেন। অনৈতিক সম্পর্ক করতে রাজি না হলে তাদের ফেল করানোর হুমকি দিতেন। ক্লাসে পর্দা, রাসুল (সা.) ও হযরত আয়েশা (রা.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আগেই অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে অফিসিয়ালি কিছু পরিবর্তনের কারণে চিঠি প্রাপ্তি নিশ্চিত নয়। দ্রুত আবারও চিঠি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মিছবাহ উদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের দপ্তর এ বিষয়ে কিছুই জানে না এবং তিনি আইএইচটি কর্তৃপক্ষকে পুনরায় লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন।
এ নিয়ে আইএইচটিতে আবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

