রুহুল আমিন, যশোর প্রতিনিধি
টানা প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু এলাকা, আর এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার কৃষিখাত। ধান, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত ৩ হাজার ১৯১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে শাক-সবজি, রোপা আউশ, রোপা আমনের বীজতলা, রোপা আমন, পাট এবং মরিচ। দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত যশোরের সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, কাশিমপুর ইউনিয়ন এবং চৌগাছা উপজেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, জেলার মোট ৬০ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে ধান, সবজি, পাটসহ নানা ফসলের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ হেক্টর রোপা আউশ, ৫০ হেক্টর রোপা আমন, ৫৯০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৬২৫ হেক্টর পাট, ১২০ হেক্টর মরিচ এবং ৫৬১ হেক্টর সবজির ক্ষেত।
চুড়ামনকাটির আব্দুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম পাতাকপি, পটল, বরবটি, বেগুন, কচুরমুখি ও পুইশাকের চাষ করেছিলেন কৃষকরা। এসব ক্ষেত এখন পানির নিচে। অনেক জমি চারা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও তা-ও নষ্ট হয়ে গেছে।
চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি, ফুলসারা এবং বলিদাপাড়া বিলের শত শত বিঘা জমির আউশ ও আমন ধানও পানির নিচে চলে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি আরও কয়েকদিন চললে রোপণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
সিংহঝুলি ইউনিয়নের কৃষক তৌফিকুজ্জামান বলেন, “অধিকাংশ নিচু জমির ধান, বীজতলা সব পানির নিচে। এখনই ধান রোপণের সময়, কিন্তু এমন আবহাওয়ায় তা আর সম্ভব হবে কি না জানি না।”
যশোর আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার (১৪ জুলাই) সর্বোচ্চ ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রোববার ছিল ৬৭ মিমি এবং মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আরও ১৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আগামী চারদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় শুধু ফসলই নয়, মাছের ঘের, বাসাবাড়ি ও জনপদও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সবজির সংকট দেখা দিলে বাজারে দামের উর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগবেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।
উপ-পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। কৃষকরা যেন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

