হুমায়ুন কবির মিরাজ, বেনাপোল
বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বন্ধ রয়েছে টানা ১১ মাস ধরে। ফলে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে এক ধরনের ‘অদৃশ্য জট’ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত প্রতি মাসে এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতো বন্দর এলাকায় উদ্ভূত সমস্যা ও জটিলতা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি জিরো পয়েন্টে। এখন শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “নিয়মিত বৈঠক না হওয়ায় অনেক সমস্যা জমে থাকছে। ব্যবসার স্বার্থেই বৈঠকগুলো চালু করা জরুরি।”
প্রাক্তন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, “এই স্থলবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও ১০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়। এত বড় বাণিজ্য পরিচালনায় নিয়মিত বৈঠক অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈঠকহীনতার সুযোগে বন্দরে ফের বাড়তে শুরু করেছে অনিয়ম। বিশেষ করে ট্রাক খালাসের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো পুরনো অভিযোগ এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে তাদের মত।
বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামিম হোসেন জানান, “ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ থাকলেও প্রতিনিধি দলের মধ্যে সরাসরি বৈঠক সম্পূর্ণ বন্ধ। অথচ এই ফোরাম ছিল তাৎক্ষণিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম।”
ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, দ্রুত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালু না হলে এই অদৃশ্য জট বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দুই দেশের অর্থনীতিতেই।

