রাসেল আহমেদ, খুলনা
খুলনার অন্যতম ব্যস্ত নৌযান চলাচল কেন্দ্র জেলখানা ঘাট ইজারা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। একের পর এক আদালতের নিষেধাজ্ঞা, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ ইজারা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।
গত ৩০ বছর ধরে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ ঘাটটি ইজারা দিয়ে আসলেও, ধ্রুব এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র মূল্যে ঘাট পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করতে সওজ বিভাগ গত কয়েক বছরে ৫ বার দরপত্র আহ্বান করে। সর্বশেষ ‘জহুরুন অ্যান্ড সন্স’ ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়।
তবে প্রতিবারই আদালতের একাধিক মামলায় প্রক্রিয়া থেমে যায়। এক পর্যায়ে ধ্রুব এন্টারপ্রাইজ দাবি করে, ঘাটটির মালিকানা জেলা পরিষদ বা বিআইডব্লিউটিএর অধীনে। যদিও সওজ তাদের ৩০ বছরের ইজারার প্রমাণ আদালতে জমা দিলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তবুও আবারও নতুন দরদাতারা আদালতের দ্বারস্থ হন, ফলে প্রক্রিয়া আবারও থেমে যায়।
খুলনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন, “সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সওজ নিয়ম অনুযায়ী একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করেছে। কিন্তু বারবার মামলার কারণে কার্যক্রম বিলম্ব হচ্ছে।”
খুলনা জেলা জজ আদালতের জিপি ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, “আদালতে সওজ প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আশা করছি, রায় তাদের পক্ষেই যাবে।”
জহুরুন অ্যান্ড সন্সের প্রতিনিধি মোল্লা মনজুর আরফিন জানান, “দুই দফায় সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও ইজারা না পাওয়ায় আমরা আদালতে গিয়েছি। এতে সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঘাটটি যথাযথভাবে পরিচালিত হলে রাজস্ব বৃদ্ধি ও সেবা নিশ্চিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জেলখানা ঘাটের ইজারা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে রাজস্ব হারানো ছাড়াও নৌযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।

