যশোর প্রতিনিধি
মানবতা, সম্প্রীতি ও সমাজসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের সন্যারগাছা গ্রামের কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহাদেব পাল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বুড়ি ভদ্রা নদী পরিষ্কার এবং আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করে তিনি সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বুড়ি ভদ্রা নদী দখল ও দূষণে দুর্ভোগে ছিলেন কেশবপুর, মনিরামপুর ও চুকনগর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এই সংকট নিরসনে মহাদেব পাল নিজ খরচে ৩০-৪০ জন শ্রমিক দিয়ে নদী পরিষ্কারে নামেন। শ্রমিকদের প্রতিদিনের মজুরি, খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করেন তিনি। শুধু তদারকি নয়, নিজেই নদীতে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে দেখা যায় তাকে।
প্রায় ১৫ দিনব্যাপী এই উদ্যোগে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরেছে, জলাবদ্ধতা কমেছে এবং স্থানীয়রা ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মহাদেব পালের এই উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে স্বেচ্ছায় অংশ নেন নদী পরিষ্কারে।
শুধু নদী নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন গড়তেও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন মহাদেব পাল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নিজ অর্থায়নে চুকনগর বাজার সংলগ্ন সন্যারগাছা ব্রিজের পাশে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এটি এখন স্থানীয় মুসল্লিদের প্রধান নামাজের স্থান হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মহাদেব পাল একজন সত্যিকারের মানবিক মানুষ ও সম্প্রীতির প্রতীক। তার মতো সমাজসেবীদের কারণেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। অনেকে তাকে সমাজের প্রকৃত নেতার আসনে দেখতে চান।

