নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার বারেন্ডা উত্তরপাড়া এলাকায় রাজমিস্ত্রী মো. জামান মিয়া (৫০) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয় মো. জালাল (৫৩)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে পারিবারিক সম্পত্তি ও ঋণজনিত বিরোধ।
কাশিমপুর থানায় দায়ের হওয়া ২৪ জুলাইয়ের মামলায় (মামলা নং: ২৬, ধারা ৩০২/৩৪) বাদী হন জামান মিয়ার মেয়ে জাকিয়া খাতুন। মামলার পর পরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং ঐদিন রাত সাড়ে ১১টায় অভিযান চালিয়ে কাশিমপুরের বারেন্ডা উত্তরপাড়া এলাকা থেকে আসামি জালালকে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, গত ২৩ জুলাই সকালে জামান মিয়াকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে চলে যান তার বোন ফরিদা বেগম। কিছুক্ষণ পর জামানের ফুফা মো. জালাল এসে দরজায় ডাকাডাকি করেন, সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে দেখেন জামান মিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের পাকা মেঝেতে পড়ে আছেন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।
জামান মিয়ার পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিজের বাড়িতে বসবাস করছিলেন এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পিবিআই-এর তদন্তে উঠে আসে, আসামি মো. জালাল বিভিন্ন এনজিও থেকে ৫ লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। কিস্তির চাপে পড়ে তিনি তার স্ত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভাগ দাবি করেন জামান মিয়ার কাছে। জামান তা দিতে অস্বীকার করলে ঝগড়ার একপর্যায়ে জালাল ঘরে থাকা বটি দিয়ে পেছন থেকে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন এবং সেখান থেকে পালিয়ে যান।
গাজীপুর জেলা পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,”এটি একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। শুধুমাত্র পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক সংকটের কারণে এমন অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। এটি পারিবারিক কলহের পাশাপাশি একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠছে, যা প্রতিরোধে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত জালালের বাড়ি থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সনজিৎ বিশ্বাস বলেন,
“তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। মামলার অন্যান্য দিক, বিশেষ করে হত্যার পূর্ব পরিকল্পনার বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

