নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ী এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলা শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড় নিয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ছিলেন মো. কামরুল ইসলাম ওরফে মোকছেদ (৩০)। কিন্তু সিআইডির তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরী মরিয়ম খাতুন (১৫) প্রসব করা শিশু হযরত উমরের জৈবিক পিতা আসলে হাসান তারিক নামের এক ব্যক্তি। রবিবার (৩০ নভেম্বর) হাসান তারিককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে সিআইডি।
জানা যায়, গত বছরের ২২ জানুয়ারি ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে কামরুল ইসলামের নামে মান্দা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে তার মেয়ে গর্ভবতী হয় এবং সন্তানের জন্ম দেয়।
থানা পুলিশ তদন্ত শেষে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিলে বাদী নারাজি দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। তাদের প্রতিবেদনেও বাদী নারাজি দেন। অবশেষে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডি মামলাটি হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিকভাবে তারা এজাহারনামীয় আসামি কামরুল ইসলামের নামই বলতে থাকেন। কিন্তু গভীর তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। তাদের সকলের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মালিবাগ সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, হাসান তারিক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ’র সঙ্গে শিশু হযরত উমরের ডিএনএ ১০০ শতাংশ মিলেছে। ফলে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, হাসান তারিকই শিশুটির জৈবিক পিতা। এজাহারনামীয় আসামি কামরুল ইসলামের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সিআইডি নওগাঁ জেলা শাখার ইনচার্জ সাবের রেজা আহমেদ জানান, “ডিএনএ রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে হাসান তারিকই শিশুটির পিতা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

