কাবা কাকলি, কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি
সম্প্রতি রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজে অনার্স পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা–সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা নেওয়া, পর্যাপ্ত ক্লাসের অভাব এবং প্রশ্নপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেননি।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানান, নির্ধারিত সিলেবাস সম্পন্ন হওয়ার আগেই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “নিয়মিত ক্লাস হয়নি, সিলেবাসও শেষ হয়নি। এ অবস্থায় ভালো ফল করা প্রায় অসম্ভব।”
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উভয় কলেজেই শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।
খাতা মূল্যায়ন নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হওয়ায় প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অনেকে অকৃতকার্য হচ্ছেন। এতে হতাশ হয়ে কিছু শিক্ষার্থী নকলের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের আরেকটি অভিযোগ, প্রশ্নপত্রের ধরন সম্পর্কেও শিক্ষকদের স্পষ্ট ধারণা নেই। তাদের মতে, পরীক্ষার কাঠামো সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকায় সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে, যা নকল প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, “নকল কখনোই কোনো শিক্ষার্থীর জন্য সুফল বয়ে আনে না। কলেজের মূল ফটক থেকেই তল্লাশি করে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে কেউ কেউ গোপনে নকল নিয়ে আসতে পারে। ভবিষ্যতে নকল প্রতিরোধে প্রশাসন আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যখন নকলের অভিযোগে জড়াচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—এর দায় কি শুধুই শিক্ষার্থীদের, নাকি ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থারও? একই সঙ্গে সামনে আসছে বড় প্রশ্ন—এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কীভাবে সম্ভব।

