মো.ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার খানপুর ইউনিয়নের বাগলপাড়া গ্রামের এক সময়ের মিশুক চালক মোহাম্মদ আলী আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং পাখি পালনের প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে স্বাবলম্বিতার নতুন পথ দেখিয়েছে।
অটোচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও দীর্ঘদিন ধরেই পাখি পালনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই ছোট পরিসরে কোয়েল পাখির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। শুরুতে ডিম সংগ্রহ করে ইনকিউবেটর মেশিনে বাচ্চা ফুটানো দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও তিন বছরের ধারাবাহিক পরিশ্রমে অর্জন করেছেন সফলতা।
বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিন, যেখানে একসাথে এক হাজার থেকে দেড় হাজার ডিম ফুটানো সম্ভব। কোয়েল, হাঁস, রাজহাঁস ও মুরগির ডিম একই মেশিনে ফুটানো যায়। জানা গেছে, মেশিনটি তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেন। প্রতি ডিম ফুটানোর জন্য নেওয়া হয় ১৫ টাকা, ফলে আশপাশের অনেক খামারি তাদের ডিম তার কাছে এনে বাচ্চা ফুটান।
ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে সময় লাগে ৭ থেকে ১৫ দিন। একদিনের বাচ্চা থেকে শুরু করে ১০–১৫ দিনের বাচ্চাও অর্ডার অনুযায়ী পাইকারি বিক্রি করেন তিনি। এতে ভালো লাভ হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী। ভবিষ্যতে ব্যবসার পরিধি আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, কোয়েলসহ বিভিন্ন পাখির বাচ্চার চাহিদা উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে। তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সবসময় উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে বলেও তিনি জানান।

