পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা-য় পঞ্চমবারের মতো ফুটেছে ভিনদেশি রাজসিক ফুল টিউলিপ। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দর্জিপাড়া এলাকায় রঙিন এই ফুলের বাগান ছড়িয়ে দিচ্ছে অনন্য সৌন্দর্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা—যেন এক খণ্ড ইউরোপ।
এ বছর বাগানে ভিন্ন ভিন্ন রঙের টিউলিপ চাষ করা হয়েছে। বাগানজুড়ে ফুটে আছে লালিবেলা (লাল), ডেনমার্ক স্ট্রং গোল্ড, মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি)সহ পাঁচ রঙের টিউলিপ। প্রায় ১৪ হাজার ফুলে সাজানো হয়েছে ৬০ শতক জমির এই বাগান। সূর্যের আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে বিশেষ শেড, আর রঙিন পতাকায় তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক প্রবেশপথ। জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকিটে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
শীতপ্রধান দেশের এই ফুলের চাষের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। ১০ জন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে খামারভিত্তিক টিউলিপ বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, এ উদ্যোগ তেঁতুলিয়ায় ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, ক্ষুদ্র চাষিদের স্বাবলম্বী করা, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি, বিদেশ থেকে টিউলিপ আমদানি কমানো এবং পঞ্চগড়কে পর্যটনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ২০২২ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শারিয়ালজোত ও দর্জিপাড়ায় ৮ জন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৬ প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ শুরু হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও বিস্তৃত হয়েছে চাষের পরিধি।
উদ্যোক্তাদের একজনের স্বামী কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, নেদারল্যান্ড থেকে প্রতি বাল্ব আনতে প্রায় ৮০ টাকা খরচ পড়ে এবং প্রতিবছর নতুন করে বাল্ব আমদানি করতে হয়। দর্শনার্থীদের টিকিট বিক্রি ও ফুলের স্টিক বিক্রির মাধ্যমে আয় হচ্ছে। প্রতিটি স্টিক ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, এমনকি ঢাকাতেও ফুল পাঠানো হচ্ছে।
রংপুর থেকে আসা লাবনী বলেন, “এত সুন্দর টিউলিপ এখানে চাষ হয়—জানা ছিল না।” দিনাজপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইখতিয়ার হোসেন বলেন, “আজ এসে দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি, যেন এক খণ্ড নেদারল্যান্ড।” শিক্ষার্থী শারমিন আকতার বলেন, “টিভিতে দেখেছি, কিন্তু সামনে থেকে দেখে ছবির মতো লাগছে।”
গত শুক্রবার বিকেলে বাগানটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। উদ্বোধন করেন ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আখতার। উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, পাঁচ বছর আগে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে টিউলিপ চাষ শুরু করা হয়। বর্তমানে এটি তেঁতুলিয়ার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং ভবিষ্যতে এখানে ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

