দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পীরের ভক্তরা।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীরের ভক্তরা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরআগে ২০০ থেকে ২৫০ জন পীরের ভক্ত ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ফিলিপনগর আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পীরের দরবার বা আস্তানায় গিয়ে শেষ হয়।
এসময় বিক্ষোভরত ভক্তরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। তবে ভক্তদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্কাবস্থায় ছিলেন।
এদিকে পীরের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দরবারে বা আস্তানায় পুনরায় দাফন করা হবে এমন গুজব ছাড়ানো হলে কবরস্থান ও দরবার এলাকায় পাহারা বসিয়েছে পুলিশ। তবে পীরের ভক্তদের দাবি, বাবাকে যারা হত্যা করেছে তারাই মুলত গুজব ছড়িয়ে হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন।
বাবাকে হারিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি, তাই এ ধরণের কোন চিন্তাভাবনা আমাদের নেই। আমরা চাই বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে তাদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
আজ শুক্রবার দুপুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পীরের সবচেয়ে কাছের ভক্তদের সাথে কথা বলে তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি কবর থেকে লাশ তোলা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন অবকাশ নেই। তবে তারা এ বিষয়ে বুঝে আমাদের আশ্বস্থ করেছে লাশ উত্তোলনের চিন্তা তাদের নেই। এনিয়ে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল তা আপাতত নিরসন হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই, হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এরআগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়।
এসময় রাজিবসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে তাকে নীচে ছুড়ে ফেলে।
এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।
হত্যাকান্ডের ৩দিন পর সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের ৭দিন পার হলেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পীরের ভক্ত ও নিহতের পরিবার আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় রয়েছেন।

