মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
সারাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা।
প্রথম দিনেই ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ, কঠোর নজরদারি আর প্রশাসনের সরব উপস্থিতি। তবে এদিন ৪০ জন পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি কিছুটা আলোচনার জন্ম দিলেও সার্বিকভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার ৬টি কেন্দ্রে মোট ২,০৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২,০৩২ জন অংশগ্রহণ করে এবং অনুপস্থিত থাকে ৪০ জন।
কেন্দ্রভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৮৭ জনের মধ্যে ৩৮৬ জন উপস্থিত ও ১ জন অনুপস্থিত ছিল। মঙ্গলপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৬৩ জনের মধ্যে ৩৫৭ জন উপস্থিত ও ৬ জন অনুপস্থিত।
কাটলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৯৯ জনের মধ্যে ২৯৭ জন উপস্থিত ও ২ জন অনুপস্থিত। বিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৯৩ জনের মধ্যে ৩৯০ জন উপস্থিত ও ৩ জন অনুপস্থিত।
সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ২৭১ জনের মধ্যে ২৭০ জন উপস্থিত ও ১ জন অনুপস্থিত ছিল।
অপরদিকে, বিরামপুর চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩৫৯ জনের মধ্যে ৩৩২ জন উপস্থিত থাকলেও ২৭ জন অনুপস্থিত ছিল—যা অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রথম দিনে এসএসসি ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরা বাংলা প্রথম পত্র এবং দাখিল পরীক্ষার্থীরা কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয়ের পরীক্ষা দেয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ছিল কড়া নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রশাসনের তদারকি, ফলে পুরো পরীক্ষার পরিবেশ ছিল সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ।
এদিকে, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের মধ্যে বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি পরীক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্ডল জানান, সবকটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

