ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামে মরা পচা পশুর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী, পথচারী ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একতারপুর মৌজার কারিকার পাড়ার একটি কাঁচা সড়কের পাশে কওছার কারিকারের মেহগুনি বাগানে দীর্ঘদিন ধরে মৃত গরু, ছাগল, ভেড়া ও কুকুর ফেলে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে। তবে মাটিচাপা দেওয়ার পরদিনই শিয়াল ও কুকুর সেগুলো তুলে খেয়ে ফেলে এবং নাড়িভুঁড়ি ও দেহাবশেষ আশপাশে ছড়িয়ে রাখে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই স্থানের অদূরেই (প্রায় ১০০ গজ দূরে) একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এছাড়া আশপাশের বসতবাড়ির বাসিন্দা, পথচারী ও কৃষকেরাও নিয়মিত এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহেদ ও ডালিম দর্জি বলেন, “আমাদের চাষাবাদের জমি ওই এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে যেতে হয়। কিন্তু মরা পশু ফেলার পর এমন দুর্গন্ধ হয় যে সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবুও জীবিকার তাগিদে যেতে বাধ্য হচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে এভাবে মরা পশু ফেলা হলেও বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তা বন্ধ হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা।
এ বিষয়ে গ্রামবাসী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা।

