গোপালগঞ্জে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ পরিচালনায় নানান দূর্ণীতি, অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রেইনিং অব মাস্টার ট্রেনারস্ ইন ইংলিশ’র (টিএমটিই) প্রশিক্ষণার্থীরা।
সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।
এদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মুুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৫ শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
ওই শিক্ষকরা হলেন, শমসের সরদার, মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ নজরুল ইসলাম, বিপুল কান্তি বিশ্বাস ও আসাদুজ্জামান।
প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়। মেধাবী শিক্ষকদের মধ্য থেকে এপটিস টেস্টের মাধ্যমে চতুর্থ ব্যাচের জন্য ১৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্য গোপালগঞ্জ,ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৪৪ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচন করা হয়। গত ৫ জুন থেকে পিটিআই গোপালগঞ্জে-এ প্রশিক্ষণ শুরু ও ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থী মাদারীপুরের শমসের সরদার, খুলনার মোঃ নাসির উদ্দিন, ফারজানা রহমান হেলেন, জেসমিন আক্তার, বাগেরহাটের এস এম মাহবুবুর রহমান, শেখ আসাদুর রহমান ও বিপুল কান্তি বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, খাবার রিফ্রেশমেন্টের বাবদ প্রতিদিন জনপ্রতি ৬৬০ টাকা বরাদ্দ থাকা সত্তে¡ও প্রশিক্ষণ শুরুর দিন থেকে তাদের অতি নি¤œমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করে পিটিআই কর্তৃপক্ষ। সংস্থাপন বিলের নামে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে টাকা দাবী করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগে আরও জানান, এছাড়া গত ৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৬ দিনের মধ্যে শুক্র ও শনিবার খাবার ভাতা দেওয়া হলেও আকস্মিকভাবে ১ জুলাই থেকে শুক্র ও শনিবারের টাকা না দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঈদের ছুটির পর করোনা রিপোর্টের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকার পরও নারী প্রশিক্ষণার্থীসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদের পিটিআইতে প্রবেশ করতে না দিয়ে হোটেলে থাকতে বাধ্য করে।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষণার্থীরা পিটিআই’র সুপারিনটেনডেন্টের কাছে যান এবং বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র পুণ্যভূমিতে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন জেলা থেকে আমরা প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য এসে গর্বিত। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে আমরা মানসম্পন্ন সেবা ও আচারন প্রত্যাশা করেছিলাম পিটিআই কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এখানকার পরিবেশ ও বাস্তব চিত্র ভিন্ন দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি।
প্রশিক্ষণার্থীদের এ কথায় পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট প্রশিক্ষণার্থীদের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন রকম অসহযোগিতা করা হয়। পানির লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় ও ওয়াশরুম থেকে হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান ইত্যাদি সরিয়ে ফেলা হয়। এসব ছাড়াও প্রশিক্ষার্থীদের সম্মানী ভাতা ও ট্রান্সপোর্টেশন থেকেও বিভিন্ন অযুহাতে টাকা কর্তন করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগে তারা জানান। এর প্রতিবাদ করায় ৫ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ আটকে দেওয়ার হুমকি দেন পিটিআই সুপার কৃষ্ণা রানী বসু।
গোপালগঞ্জের পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট কৃষ্ণা রানী বসু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অসত্য। কতিপয় প্রশিক্ষণার্থী বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
প্রসঙ্গত, এরআগেও পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের টিএমটিই প্রশিক্ষণার্থীরা একই ধরনের অভিযোগ করেন।

