শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
দেশের বৃহত্তম গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ৩৭২ জন অসহায় নারীর (যৌনকর্মী) মাঝে আর্থিক সহায়তা বাবদ ৩৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরন করা হয়েছে।। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত এ সহায়তা বাবদ প্রত্যেক নারীর হাতে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বেলা ১২ টার দিকে যৌনপল্লীর পাশে দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠে এ চেক বিতরন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যৌনকর্মীদের সংগঠন অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। যৌনকর্মীদের মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে তৈরীকৃত মোর্চা এ সহায়তা কর্যক্রমে সার্বিকভাবে সহায়তা করে।
চেক বিতরন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী ফরিদা পারভীন। অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন সাভার গণস্বাস্থ্যে কেন্দের সহকারী নির্বাহী পরিচালক ডা. মাহজাবিন চৌধুরী, নারী পক্ষের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফাবলিহা আক্তার, যশোরের বঞ্চিত সংস্থার নিবার্হী পরিচালক নুর নাহার রানু, সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হিসাবরক্ষক শুভ বশাক, পায়াক্ট বাংলাদেশ সংস্থার ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান খান জুয়েল, দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলী , কেকেএস সেফ হোমের ম্যানেজার মো. শাহাদৎ হোসেন, সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক নিলুফা বেগম প্রমূখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৌলতদিয়া গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের মাঠ সংগঠক মো. সাজ্জাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে চেক গ্রহনকালে কয়েকজন নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, বয়সের ভারে তারা এখন সকলের কাছে বোঝা হয়ে গেছে। দেখাশোনার তেমন কেও নেই। নানা ধরনের অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হলেও ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেন না। দু’বেলা ঠিকমতো আহার জোটে না। এই অর্থ তাদের অনেক উপকারে লাগবে।
অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী ফরিদা পারভীন বলেন, যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদেরও রাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক সহ সকল ধরনের সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এখানে বড় ধরনের এই আর্থিক সহায়তা দেয়ায় আমরা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বছর দেশের বিভিন্ন যৌনপল্লীর প্রায় দুই হাজারের অধিক যৌনকর্মীকে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

