খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় চিত্রা নদীর ভাঙনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, ঐতিহাসিক ডাকবাংলো ও থানা ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর ২৩ জুলাই সরেজমিনে পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সেলিম রেজা। তাঁরা জানান, ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অচিরেই মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন দপ্তরগুলোকে জানানো হয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি টেকসই সমাধানের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।”
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বহুদিন ধরে ভাঙন সমস্যা থাকলেও এবার প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে আমরা আশাবাদী। কাজ যেন দ্রুত শুরু হয়, সেটাই চাই।”
ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার বাপ্পি মোল্লা বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি, তবে ইউএনও ম্যাডামের উদ্যোগে স্বস্তি পাচ্ছি। স্থায়ী সমাধান দরকার।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিত্রা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কেবল অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন জিও ব্যাগ, আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন।
এই ভাঙন এখন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং তেরখাদার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জননিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপে নতুন করে আশাবাদী স্থানীয় জনগণ।

