যশোর প্রতিনিধি
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিহত ও আহত সোনামণিরা যেন সবার আত্মার আত্মীয়! যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিশুদের কথাবার্তায় তেমনটিই মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, নিহত ও আহতরা এসব শিশুর অনেক দিনের পরিচিত, খেলার সাথী। এ কারণে তাদের জন্য যশোরের শিশুদের সহমর্মিতার কমতি নেই। বুধবার শহর ও শহরতলির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। যা উপস্থিত অনেক বয়স্ক মানুষকেও আপ্লুত করে।
মাইলস্টোন স্কুলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আইএসপিআর। আহত রয়েছে শতাধিক। পাশাপাশি নিখোঁজও রয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিখোঁজদের ভাগ্যে কী হয়েছে তা তাদের স্বজনরা এখনো জানেন না। আদৌ তারা বেঁচে আছে, নাকি চলে গেছে না ফেরার দেশে সেটি কেউই নিশ্চিত করতে পারছে না। ছোট ছোট শিশুদের অকস্মাৎ পুড়ে মরার দৃশ্যটি কেউই মেনে নিতে পারছেন না। কেবল বাংলাদেশ না, গোটা দুনিয়াজুড়ে এটি নিয়ে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করে। শোকের অংশ হিসেবে সব সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সুবিধামতো সময়ে আয়োজন করা হয় দোয়া অনুষ্ঠানের।
বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবুঝ শিশুদের রবের দরবারে দু’হাত তুলে দোয়া করা দৃষ্টি কাড়ে আশপাশের মানুষের। দিনভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই দুর্ঘটনা নিয়ে শিশুদের মধ্যে চলে নানা আলোচনা-সহমর্মিতা প্রকাশ। জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যশোরের অক্সফোর্ড স্টেইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ অনেক স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া। দোয়ার আয়োজন করা হয় যশোর সরকারি মহিলা কলেজেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশনও দোয়ার আয়োজন করে।
জিলা স্কুলে দোয়া পরিচালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা) মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন খান, সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম, জামাল উদ্দীনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে যশোর শহরের অক্সফোর্ড স্টেইট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। মঙ্গলবার সকালে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত জেলার প্রথম এই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এ দোয়া অনুষ্ঠান হয়। দোয়া পরিচালনা করেন স্কুলের অধ্যক্ষ সাইফুর রহমান সাইফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ শাহিনুর বেগম, শিক্ষক মো. সজিব, আবিদা মাজেদ, সেলিনা নাহারসহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। লাইনে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেয় সদর উপজেলার রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক গাজী শহিদুলসহ অন্যান্য শিক্ষকরা অংশ নেন। জোহরবাদ দোয়ার আয়োজন করা হয় সরকারি মহিলা কলেজে। অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল হাসান ফারুকসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, নিউটাউন বাদশাহ ফয়সল স্কুলে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক আছাদুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক এসএম রবিউল আলম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু ইমরান গাজী সিনিয়র শিক্ষক সেকেন্দার আলী, জাবেরা খাতুন প্রমুখ।
নিউটাউন বালিকা বিদ্যালয়ে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া শিরিন, সহকারী শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান, তাসলিমা খাতুন, পারভীন আক্তার, তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এসএসটিপি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারজানা করিম, সহকারী শিক্ষক আব্দুল বারিক, বিথিকা দে, আব্দুল খালেক, জগদীশ প্রমুখ।
নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এক বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় বাদজোহর জেলা মডেল মসজিদে। এ দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম মুফতি মঈন উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যশোর জেলার উপপরিচালক ইকরামুল ইসলাম শাওন, হিসাব রক্ষক ওয়ালিউর রহমান, এলডিএ শাহাদাৎ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জি. এম. মনিরুজ্জামান, মাস্টার ট্রেইনার আশরাফ আলী, ফিল্ড সুপারভাইজার শাহজাহান হোসেন প্রমুখ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সব উপজেলা মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে জানান কর্মকর্তারা।
সব মানুষের একটাই দোয়া,‘হে পরোয়ারদেগার তুমি নিহতদের জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করো। আহতদের দ্রুত সুস্থ করে দাও। নিখোঁজদের সন্ধান দাও। সন্তান আর স্বজনহারাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দাও।’ এ যেন স্বজনদের জন্য স্বজনদের দোয়া। এই দোয়া সকলের হৃদয় কাড়ে।

