নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শহীদ হন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম সাগর। তাঁর এই আত্মত্যাগে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামী।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শহীদ পাইলটের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) নিহত পাইলটের শ্বশুর ও রানী বিলাসপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল হোসেনের বাসায় যান।
তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা জানান এবং শহীদ তৌকির ইসলামের আত্মত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা এই পরিবারকে একা ভাবতে দেব না। শহীদ তৌকিরের দেশপ্রেম ও সাহসিকতা যেন জাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।”
পরিবারের সদস্যরা বলেন, “এই সহমর্মিতা আমাদের জন্য এক বিরাট সাহসের উৎস। আপনাদের ভালোবাসা আমরা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছি।”
সফরে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো. খাইরুল হাসান, মো. হোসেন আলী, অফিস সেক্রেটারি আবু সিনা মামুন, সদর মেট্রো থানা আমির সালাউদ্দিন আইয়ুবী, পুবাইল থানা আমির আশরাফ আলী কাজলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নিহত পাইলটের শ্বশুর আবুল হোসেন জানান, তাঁর মেয়ে আকসা হোসেন নিঝুমের সঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৌকির ইসলামের বিয়ে হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তৌকিরের হাতে কন্যাকে তুলে দেন। নিঝুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
তৌকিরের মৃত্যুতে নিঝুম মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছেন এবং ঘুমের ওষুধ দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার দিন কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই তৌকির জানিয়েছিলেন, সেটি নিচে নেমে যাচ্ছে। তখন তাকে প্যারাসুটে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু জনবহুল এলাকা এড়াতে তিনি বিমানটি খোলা মাঠের দিকে চালাতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেন।

