নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তে প্রাণ হারানো তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা মনি (৯)–এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে ফরিদপুরের নিজ গ্রামের বাড়িতে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর সদস্য ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
রাইসার পরিবার জানায়, বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। অবশেষে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) একটি দগ্ধ মরদেহ দেখে তাকে শনাক্ত করেন বাবা শাহাবুল শেখ। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেলে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার ভোরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় কান্না আর শোকের মাতম। এলাকার শত শত মানুষ ছুটে আসেন এক নজর মেয়েটিকে দেখতে। শিশু রাইসার এভাবে বিদায় গোটা এলাকায় সৃষ্টি করেছে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
রাইসার বাবা শাহাবুল শেখ একজন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকার উত্তরা নয়ানগরে বসবাস করতেন। রাইসা ছিল তাদের মেজো মেয়ে। বড় বোন সিনথিয়া মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, আর ছোট ভাই রাফসান মাত্র ৪ বছরের শিশু। পরিবারটির স্বপ্ন ছিল সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়িয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা।
রাইসার চাচা ইমদাদুল শেখ বলেন, “আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে সিএমএইচে পাই। বাবা শাহাবুল মেয়ের দগ্ধ মুখ দেখে শনাক্ত করেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আজ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলো।”
গোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, “রাইসার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না। সারা গ্রামে শোকের ছায়া।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাইসার পরিবারের পাশে রয়েছি। আল্লাহ যেন এই শোক সইবার তৌফিক দেন পরিবারকে।”
বিমান দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে এখনো তদন্ত চলছে। রাইসার মতো একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যু জাতির জন্যই এক বড় ট্র্যাজেডি।

