ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও আংশিক বিজয়নগর) আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জমতে শুরু করেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া না হলেও আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন বেশ সরব।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে—এ আসনে বিএনপির সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জোট হলে আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে দলীয় সম্ভাবনা নষ্ট না করে প্রতিটি মনোনয়ন প্রত্যাশী এখনো সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি, গণসংযোগ, মতবিনিময় সভাসহ নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা,কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মো. শামীম,জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন,জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে,ড্যাব নেতা ডা. নাজমুল হুদা বিপ্লব,আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজী,সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু সব মিলিয়ে মোট আটজন সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রত্যেকেই দাবি করছেন—দলের জন্য কাজ করেছেন, করছেন এবং মনোনয়ন পেলে বিজয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এ সুযোগে তারা বিভিন্ন কৌশলে এলাকায় সম্পর্ক বাড়ানো ও দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে একই আসনে জামায়াতে ইসলামের মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা মোবারক হোসেনও দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন এবং নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঐতিহ্যবাহী এ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। ২০০১ সালে জোটের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক আমিনী বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আমিনী পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী জোটের প্রার্থী এড. জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ২০১৮ সালে আবারও বিজয়ী হন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।
নতুন নির্বাচনে কে হচ্ছেন বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী—এ নিয়ে এলাকায় চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সবশেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

