যশোর প্রতিনিধি
যশোরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম অনিয়ম ও অরাজকতার চিত্র উঠে এসেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় অনুমোদিত ৩০৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ২৭৩টিরই হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। ফলে সেবার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
তথ্য অনুযায়ী, যশোরের আট উপজেলায় রয়েছে ১২০টি ক্লিনিক ও ১৮৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে সদর উপজেলাসহ শহর এলাকায় রয়েছে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়ন না করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে আরও বহু অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেগুলোর অনেকেই লাইসেন্সের আবেদনও করেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে যশোর জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান আবাসিক ভবন বা সংকীর্ণ গলিতে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাব থাকা সত্ত্বেও বড় বড় সাইনবোর্ড দিয়ে রোগীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালাল চক্র সক্রিয়। তারা গ্রাম থেকে আসা রোগীদের টার্গেট করে সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রলুব্ধ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় বেসরকারি ল্যাবগুলোতে পরীক্ষার খরচ কয়েকগুণ বেশি হলেও সেবার মান নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সবিহীন বা শর্ত পূরণে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।

