যশোর প্রতিনিধি
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়ে যশোরে শেষ হতে চলেছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপ। ৯১ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্যের বড় একটি অংশ অর্জন সম্ভব হয়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৮২৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখনও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকারি ছুটির কারণে শুক্রবার টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) শেষ দিনে ৩১ হাজার ১৭৫ শিশুকে টিকার আওতায় আনার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে অনেকেই টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে পারেননি। যশোর জেনারেল হাসপাতালে সন্তানকে টিকা দিতে আসা রুবাইৎ বেগম বলেন, “হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে—এ তথ্য আগে জানতাম না। প্রতিবেশীর মাধ্যমে জেনে এসে দেখি, কর্মসূচি প্রায় শেষ।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন চয়নিকা বিশ্বাস। তিনি বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও তেমন কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা চোখে পড়েনি। কোথায় টিকা দেওয়া হচ্ছে তাও জানা যায়নি।”
এদিকে, প্রথম ধাপে ধীরগতির মধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এ ধাপে জেলায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ২৮০টি কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, “প্রথম ধাপের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের কিছু অমিল ছিল, যার কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত ৩২৯ জন হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

