ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত। জেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সদ্য নির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থক এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলা ও বিক্ষোভ মিছিলের জেরে সরাইল শহর থমথমে পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশ অন্তর্ভুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন করেন সরাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। অন্যদিকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। এরপর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দ্বিধা-দ্বন্দ তৈরি হয়।
গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাত ১২.০১ মিনিটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনায় রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ভেঙে যায় এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে তার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় রুমিন ফারহানার সমর্থক আহাদ মিয়া বাদী হয়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা সরাইলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করে। বিশেষ করে শহরে ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়।
এর জবাবে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। উভয় মামলার আসামীরা আদালতে জামিনে মুক্ত হলেও এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সরাইলের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অশান্তি ও সম্ভাব্য অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসবে।

