শারমিন সুলতানা, পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
পলাশ পারুলিয়া দেওয়ান শরিফ খাঁ মাজারটি ঢাকার অদূরে নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। নরসিংদীর পলাশে মোগল আমলের মুসলিম সভ্যতার এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি ৪০০ বছর আগের। পারুলিয়ার দেওয়ান শরিফ খাঁ এর মাজারটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আজ সোমবার (০২ মার্চ) বাংলা ১৭ই ফাল্গুন দেওয়ান শরিফ খাঁ এর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছর এই দিনে ধর্মীয় আলোচনা মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়,তখনকার সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে বড় বড় পাল উড়িয়ে পালের নৌকা আসা-যাওয়া করতো। পালের নৌকা দেখতে এলাকাবাসী নদের তীরে ভীর করত। তখনই নাম পরিবর্তণ করে নামকরন করা হয় পারুলিয়া। তাছাড়া, নৌকায় নদী পারাপার হতো বলে এর নামকরণ পারুলিয়া হয়।
মাজারটির আওতায় রয়েছে ১২ বিঘা জমি। এখানে রয়েছে চারটি শান বাঁধানো পুকুরঘাট। পূর্ব পাশে রয়েছে একটি নীল গম্বুজ মসজিদ। মাজারটির কারুকাজ অত্যন্ত শিল্প সুষমামণ্ডিত। জানা যায় ইরান, বাগদাদ, ইয়েমেন থেকে কারিগর এনে মাজারের নির্মাণ ও কারুকাজ করা হয়।
এই প্রাচীন ঐতিহাসিক মাজারটি ৪০০ বছর আগে নির্মিত হলেও আজও আপন শিল্পকর্মে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পলাশ উপজেলার নিবিড় পল্লীতে শান্ত পরিবেশে।
জানা যায়, ১১২৮ হিজরিতে দেওয়ান শরিফ খাঁ ইন্তিকাল করেন। তার স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরের বছর জয়নব বিবি মারা গেলে স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাজার কমিটির সভাপতি), জিনারদি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জনাব আরিফ মোল্লা।
আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন, জিনারদি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি খোরশেদ আলম( আহবায়ক আয়োজক কমিটি),জিনারদি ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জনাব রোমান ভূইয়া (সদস্য সচিব আয়োজক কমিটি)।
আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট জসীমউদ্দিন মৃধা, সিনিয়র সহ সভাপতি পলাশ উপজেলা বিএনপি।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক পলাশ উপজেলা যুবদল)জনাব মাসুদ খান, রিপন ফকির, আবিদ বাবু, আল-আমিন, কাউছার, শরিফ, কবির, আশরাফ, শরিফুল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার প্রমূখ ব্যাক্তিবর্গ সহ দূরদুরান্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুবনেতা রুবেল ফকির।
দেওয়ান শরিফ খাঁ ও তাহার স্ত্রী জয়নব বিবির মাজারটি দেখতে ইতিহাস সন্ধানীরা, ও দূর দূরান্ত থেকে আগত ভক্ত বৃন্দরা প্রতি দিনই ভীড় করেন।অনুষ্ঠান ছাড়াও প্রতিদিন শত শত হিন্দু মুসলিম মাজার জিয়ারত করেন।আজও মাজার প্রাঙ্গণে নেমে এসেছে ভক্ত বৃন্দের উপচে পড়া ঢল।

